সারাদেশ

আগামীকাল থেকে চালু হচ্ছে পঞ্চগড়-ঢাকা আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিস

আগামীকাল শনিবার (১০ নভেম্বর) থেকে চালু হচ্ছে দেশের দীর্ঘতম রুট পঞ্চগড়-ঢাকা আন্ত:নগর ট্রেন সার্ভিস। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে পঞ্চগড়বাসীর স্বপ্নের দাবি পুরণ হতে চলেছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৬টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ঢাকা-দিনাজপুর চলাচলকারী দ্রুতযান এক্সপ্রেস এবং একতা এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি পঞ্চগড় থেকে ঢাকা চলাচল শুরু হবে। ইতিমধ্যে পঞ্চগড়-ঢাকা রুটে সরাসরি আন্ত:নগর ট্রেন চলাচল উদ্বোধনসহ প্রযোজনীয় কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। পঞ্চগড়-ঢাকা সরাসরি ট্রেন চলাচলের খবরে উচ্ছসিত পঞ্চগড়বাসী। এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে আনন্দ উল্লাস ছড়িয়ে পড়েছে।

পঞ্চগড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পঞ্চগড়-ঢাকা সরাসরি ট্রেন চলাচল। পঞ্চগড়-থেকে দিনাজপুর পর্যন্ত ১৫০ কিলোমিটার মিটারগেজ রেলপথকে আধুনিকায়ন ও ডুয়েল গেজে রূপান্তরিত করতে ৯৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে রেল মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২০১০ সালে তমা কনস্ট্রাকশন ও ম্যাক্স কনস্ট্রাকশন নামে দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে। ২০১৪ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দফায় দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৬ সালে রেললাইনের সকল কাজ সম্পন্ন করে। এরপর ২০১৭ সালে রেলমন্ত্রী মজিবুল হক পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী কানেকটিং ট্রেন (শাটল ট্রেন) উদ্বোধন করেন। টিকেট সংকটসহ (মাত্র ৩৫টি আসন) নানা বিড়ম্বনার মধ্য দিয়ে রেল যাত্রীরা শাটল ট্রেনে করে দিনাজপুরে গিয়ে দিনাজপুর-ঢাকা রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর একতা ও দ্রুতযান এক্সপ্রেসের মাধ্যমে ঢাকা চলাচল করার সুযোগ পায়।

রেললাইন ডুয়েল গেজে রুপান্তরের পরও সরাসরি ট্রেন চালু না হওয়ায় এখানকার বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, স্বারকলিপি পেশসহ বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে। এলাকার মানুষের দাবির প্রতি সমর্থন করে সরকার অবেশেষে আগামী শনিবার (১০ নভেম্বর) সকাল ৭টা ২০ মিনিট থেকে পঞ্চগড়-ঢাকা সরাসরি ট্রেন সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেন। তবে এ রুটে দুটি আন্ত:নগর ট্রেন চালুর উদ্যোগে নেয়া হলেও নতুন করে এ জেলার মানুষের জন্য আসন (টিকেট) বৃদ্ধি করা হয়নি।

বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড় থেকে ঢাকা রুটে নতুন ট্রেন সার্ভিস চালুর কথা থাকলেও ঢাকা থেকে দিনাজপুরগামী দ্রুতযান ও একতাকেই নিয়ে আসা হচ্ছে পঞ্চগড়ে। পঞ্চগড়-ঢাকা প্রায় ৬শ’ কিলোমিটারের এই রুটে ২৩টি রেলস্টেশনে থামবে ট্রেন দুটি। এখন থেকে আর ডেম্যু বা শাটল ট্রেন থাকবে না। প্রতিদিন ট্রেন যাতায়াত করবে।

পঞ্চগড় রেলস্টেশন থেকে দ্রুতযান ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে প্রতিদিন সকাল ৭টা ২০ মিনিটে। ১০ ঘণ্টা ৫০ মিনিট পর ট্রেনটি ঢাকায় পৌঁছাবে সন্ধ্যা ৬ টা ১০ মিনিটে। ঢাকা থেকে দ্রুতযান ছাড়বে প্রতিদিন রাত ৮টায় এবং পঞ্চগড় পৌঁছাবে সকাল ৬ টা ৩৫ মিনিটে।

অপরদিকে একতা এক্সপ্রেস পঞ্চগড় থেকে ছাড়বে প্রতিদিন রাত ৯টায়। ট্রেনটি ঢাকায় পৌঁছাবে পরদিন সকাল ৮টা ১০ মিনিটে। ঢাকা থেকে একতা এক্সপ্রেস ছাড়বে প্রতিদিন সকাল ১০টায় এবং পঞ্চগড় পৌঁছাবে রাত পৌনে ৯টায়। দ্রুতযান ও একতায় প্রতিটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাথের ভাড়া ১৯৪২টাকা, এসি চেয়ারের ভাড়া ১০৫৩ টাকা, নন এসি বাথের ভাড়া ১১৪৫ টাকা ও শোভন চেয়ারের ভাড়া ৫৫০ টাকা।

পঞ্চগড় রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, আগামী শনিবার (১০ নভেম্বর) থেকে আন্ত:নগর ট্রেন চালু হবে। সকাল সাড়ে ৬টায় পঞ্চগড় রেলষ্টেশনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে। পঞ্চগড়-ঢাকা সরাসরি আন্ত:নগর ট্রেন সার্ভিস চালুর জন্য পঞ্চগড় রেলষ্টেশনে দ্বি-তলা বিশিষ্ট রেল স্টেশন, ওয়াশফিট, ডগ লাইন, পানির ট্যাংকি, প্লাটফর্ম, সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে। আপাতত ট্রেন উদ্বোধনের জন্য কিছু কাজ দ্রুত শেষ করতে হচ্ছে।

ট্রেন দুটি চালু হলে সহজে যাত্রী, মালামাল পরিবহনের পাশাপাশি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।