সারাদেশ

খিলিপান বিক্রি করে সংসার চালান ৪১ ইঞ্চি উচ্চতার হাফেজ

কুড়িগ্রাম জেলার সবচেয়ে ছোট ৪১ ইঞ্চি উচ্চতা সম্পন্ন হাফেজ মো. সাইদুর রহমানের জীবন সংসার চলছে খিলিপান বিক্রি করে। কর্মক্ষম হওয়ায় তার সংসার চলছে খুবই দুঃখে-কষ্টে।

১৯৭৪ সালে ডিসেম্বর মাসে রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের জন্দিরকান্দা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মৃত সিরাজুল ইসলাম এবং মায়ের নাম মৃত সহিতন খাতুন। পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। ৪৫ শতক জমির উপর তাদের বসতবাড়ি। অন্য ভাইয়েরা জমির অংশ বণ্টন করে নেওয়ায় কোন মতে ঠাঁই করে আছেন হাফেজ সাইদুর রহমান।

২০০৯ সালে একই উপজেলার রতনপুর গ্রামে তিনি বিবাহ করেন। পাঁচ সদস্য নিয়ে তার সংসার। স্ত্রী শাহানাজ পারভীন। তাদের ঘরে পাঁচ বছর বয়সের কন্যাসন্তান সুমাইয়া আকতার সুমা ও ৮ মাস বয়সের সানাউল্লাহ আহমেদ নামের ছেলে সন্তান রয়েছে। দ্বিতীয় বোন শিরিনা খাতুনও প্রতিবন্ধী। তার উচ্চতা ও ৪২ ইঞ্চি। শিরিনার জন্ম ১৯৭২ সালের মার্চ মাসে। গত কয়েক বছর আগে কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার এনজিওর এক কর্মীর সঙ্গে বিবাহ হয়। সেখানে বেশিদিন সংসার টেকেনি। পরে শিরিনা তার ছোট ভাই প্রতিবন্ধী হাফেজ সাইদুর রহমানের বাড়িতে আশ্রয় নেন। বর্তমানে হাফেজ সাইদুর রহমান স্বামী পরিত্যক্ত বোনকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। তার সংসারে উপার্জন করার মতো আর কেউ নেই। ফলে হতাশায় তার দিন অতিবাহিত হচ্ছে।

হাফেজ সাইদুর রহমান বাংলা পড়াশোনায় বেশি দূর এগুতে পারেনি। কোন মতে পঞ্চম শ্রেণী পাশ করেছেন তিনি। পরে রৌমারীতে এক হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হয়। সেখান থেকে কোরআনের হাফেজ হয়ে বের হয়। ঢাকায় দক্ষিণ গড়ান বাগানবাড়ি একটি মাদ্রাসায় পবিত্র কোরআন পাঠে শোনানি দেন।

চট্টগ্রামের কিতাবখানা একটি মাদ্রাসায় কিছু দিন পড়াশোনা করেন। তারপর তিনি আবারো নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। কিছু দিন পর তার বাবা-মা পরলোক গমন করেন। বড় বোনকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন তিনি। অন্য ভাইয়েরা কিছু দিন পরেই পৃথক হয়। ফলে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটে তাদের দুই ভাই বোনের। এমন সময়ে বিএনপির শাসন আমলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় ও তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জেলা পরিষদের একটি দোকানের জায়গা বরাদ্দ দেন। সে জায়গায় ঘর তুলে খিলিপানের দোকান দেন তিনি। পুঁজি না থাকায় দোকানে অন্যান্য মালামাল তুলতে না পারায় সামান্য টাকার বেচাকেনা হয়। এর থেকে দৈনিক যা আয় হয় তা দিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার চলে কোন মতে।

উপজেলার ৩নং বন্দবেড় ইউপি চেয়ারম্যান কবীর হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইতিপূর্বে তাকে কোন সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়নি। তবে এবার একটি ভিজিডি কার্ডের নাম দেওয়া হবে।

হাফেজ সাইদুর রহমান প্রতিবন্ধী হিসেবে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে যান একটি প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য। সে সময়ে প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়ার সুযোগ না থাকায় ১৫ হাজার টাকা তাকে ঋণ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ঋণের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ না হওয়ায় প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়া হচ্ছে না তাকে।

এ ব্যাপারে গত ৩০ অক্টোবর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আজাদুল হক বলেন, ঋণের টাকা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত তাকে প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়া সম্ভব না। তারপরেও হাফেজ সাইদুরকে প্রতিবন্ধী ভাতা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।