অর্থনীতিব্যবসা-বানিজ্য

কর দেন না সামর্থ্যবানদের দুই-তৃতীয়াংশ

দেশে কর প্রদানে সামর্থ্যদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ব্যক্তি এখনো কর দেন না। কর পরিশোধ পদ্ধতির জটিলতা ও হয়রানির আশঙ্কায় বেশিরভাগ মানুষ করের জালে আসতে ভয় পান। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক ধারণা জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে এ জরিপ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা অন্যান্য দেশের তুলনায় দেশে জিডিপিতে (মোট দেশজ উত্পাদন) রাজস্বের আহরণের হার কম বলে উল্লেখ করেন। এর পেছনে রাজস্ব ব্যবস্থাপনার নীতি-কাঠামোগত সমস্যা এবং উচ্চ করহার এবং করদাতা ও কর কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ফাঁকিসহ বেশকিছু কারণ তুলে ধরেন।

একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে বিদেশি সহায়তার বিষয়েও আলাদা একটি প্রতিদেন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে বিদেশি সহায়তা ও ঋণের প্রয়োজনীয়তা এবং এর সঠিক ব্যবহারের বিষয়টি উঠে আসে। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া।

খানা আয়-ব্যয় জরিপের তথ্য ভিত্তিতে কর প্রদানে সক্ষম- এমন ১ হাজার ২শ ব্যক্তির উপর ওই ‘ধারণা জরিপটি’ চালানো হয়। এতে দেখা যায়, সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের মধ্যে ৩২ শতাংশ গত বছর কর দিয়েছেন। অর্থাৎ প্রায় ৬৮ শতাংশ সামর্থ্যবান ব্যক্তি কর প্রদান করেন নি। এছাড়া উচ্চ আয়ের ২৫ শতাংশ ব্যক্তির মধ্যেও এক-তৃতীয়াংশ গত বছর কর প্রদান করেন নি। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেকই মনে করেন, বর্তমান কর ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল। আর গত বছর কর দিয়েছেন এর মধ্যে ৫৪ শতাংশ এ ধারণা পোষণ করেন। আর ৬৫ শতাংশ ব্যক্তি মনে করেন, কর ব্যবস্থায় দুর্নীতি বিরাজমান। ৭৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, বিদ্যমান কর ব্যবস্থা ধনীদের পক্ষে। আর ৮৫ শতাংশ মনে করেন, সরকারি সেবার সরবরাহ এবং এর গুণগত মান বাড়লে মানুষ কর প্রদানে উত্সাহী হবেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম জিডিপিতে করের অবদান কাঙ্ক্ষিত হারে না বাড়ার পেছনে উচ্চ কর হার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন। বিদেশি ঋণ ও অনুদানের প্রয়োজন রয়েছে কিনা- আলোচনার এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা এমন কোনো পর্যায়ে পৌঁছাই না যে, সার্বিকভাবে আমাদের বিদেশি সহায়তা দরকার নেই। তবে যে অর্থ পাই- তা যেন সঠিকভাবে ব্যবহার হয়। এছাড়া এসব প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়নের তাগিদ দেন তিনি।