সারাদেশ

বড়াইগ্রামে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু, হাসপাতাল সিলগালা

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল বাজারে অবস্থিত জাহাঙ্গীর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক না হয়েও হাসপাতালের মালিক নিজেই ভুল অপারেশনের মাধ্যমে এক প্রসূতির মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় হাসপাতালটি সিলগালা করে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনোয়ার পারভেজ সরেজমিনে গিয়ে হাসাপাতালের নানা অনিয়মের কারণে হাসপাতালটি সিলগালা করে বন্টধ করে দেন। এ ঘটনায় হাসপাতালের মালিক জাহাঙ্গীর আলমের বাবা নাজমুল হোসেনকে আটক করা হয়েছে। অপরদিকে হাসপাতাল মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন পলাতক রয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনোয়ার পারভেজ জানান, হাসপাতালের কোনো বৈধ সার্টিফিকেট নাই। হাসপাতালের মালিক জাহাঙ্গীর আলম পল্লী চিকিৎসক হয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাফি, এনেসথেসিয়া ও ছোট-বড় সকল অপারেশন করেন। নার্সিং পাশ না করেই ওটি ইনচার্জ ও সহকারী নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সতেরো ও আঠারো বছরের দুই মেয়ে। কোনো মেডিক্যাল অফিসার বা আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার নাই। সব মিলিয়ে রোগীদের সাথে দীর্ঘদিন প্রতারণা করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলো জাহাঙ্গীর আলম। এ কারণে হাসপাতালটি সিলগালা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে জাহাঙ্গীর নিজেই ডেলিভারি অপারেশন করেন উপজেলার জোনাইলের কুমারখালী গ্রামের রাশিদুল ইসলামের স্ত্রী গৃহবধূ পারভীন আক্তারকে। নিজেই অস্ত্রপচার ও এনসথেসিয়া করেন জাহাঙ্গীর হোসেন। কিন্তু ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয় পারভীন অক্তারের। পেটের শিশুটিকে জীবন্ত বের করতে পারলেও শিশুটির মাথার ডান পাশে ছুরির আঘাতে কেটে যায়। পরবর্তীতে দুই লক্ষ টাকার বিনিময়ে ধামা চাপা দেওয়া হয় ঘটনাটি। গ্রামবাসী পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহকে জানালে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান, এই হাসপাতালে আখের আলী মন্ডল, ডলি রানী ও তানিকুর রহমান নামে তিনজন এমবিবিএস ডাক্তার মাঝে মধ্যে অপারেশন করতে আসেন। যে সকল রোগী ও তার পরিবার শিক্ষিত ও সচেতন তাদেরকে পাশ করা ডাক্তার দিয়ে অপারেশন করান তিনি। আর যারা গ্রামের মূর্খ বা অল্প শিক্ষিত তাদের ওই সকল ডাক্তারের কথা বললেও রোগীকে ওটিতে অজ্ঞান করে নিজেই অপারেশন করেন জাহাঙ্গীর। আর এভাবে অনেক রোগীই তার ভুল চিকিৎসায় মারা গেছেন। তবে এই মৃতের ব্যাপারে জানা যায় চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভুল চিকিৎসায় মারা গেলে সমস্যা এড়াতে জাহাঙ্গীর মৃত রোগীকেই রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। তার ভুল চিকিৎসায় শত শত রোগী এখনো যন্ত্রণা পোহাচ্ছে। ওই সব রোগীরা উন্নত চিকিৎসা নিতে গুনতে হয়েছে মোটা অংকের টাকা।

জাহাঙ্গীর আলমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অপারেশন করেছেন ডা. তানিকুর রহমান। কিন্তু তানিকুর রহমান জানান, ওই অপারেশন তিনি করেননি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ইউএনও আনোয়ার পারভেজও ওই রোগীর নথিপত্র অনুসন্ধান চালিয়ে তানিকুর রহমানের অপারেশন করার সত্যতা খুঁজে পাননি। ভ্রাম্যমাণ আদালত হাসপাতাল সিলগালা করার পূর্বে সিসি ক্যামেরার হার্ড ডিস্ক, হাসপাতালের ভুয়া কাগজ-পত্রাদি জব্দ করে।