সারাদেশ

ছয় টুকরো করে হত্যা মামলার রায় : ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে জহিরুল ইসলাম নামের এক স্কুলছাত্রকে ছয় টুকরো করে হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ শহীদুল আলম ঝিনুক এই রায় প্রদান করে। সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। নিহত জহিরুল ইসলাম উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের খাসেরচর গ্রামের শেখ খোকন মিয়ার ছেলে ও খাসেরচর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল।

মৃতুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো-রাকিবুল, সুলতান, সোহেল ও রফিক। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো- রুবেল, সজীব ও আকিবুল। এই মামলা থেকে খালাস দেয়া হয়েছে শরীফুলকে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে সুলতান ও সজীব পলাতক আছে। বাকিরা রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানাযায়, ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জহিরুল ইসলামকে তার বাড়ি থেকে মুঠোফোনে বাস্তা গ্রামের সুলতান ডেকে নিয়ে যায় তার বাড়িতে। জহিরুল রাতে বাড়ি না ফেরায় তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করে বন্ধ পায় পরিবারের লোকজন। পরের দিন বিষয়টি থানাকে জানালে পুলিশ ওই দিন বিকালে সুলতানের বাড়িতে অভিযান চালায়। এসময় তল্লাশি করে ওই বাড়ি থেকে পুলিশ জহিরুলের মোবাইলের দুটি সিমকার্ড, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও মাদকদ্রুব্যসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে। পুলিশ নিশ্চিত হয় জহিরুল ইসলামকে হত্যা করা হয়েছে। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে সুলতানের বাড়ি সংলগ্ন প্রবাসী আব্দুল কাইয়ুমের বাড়ির বাথরুমের সেপটি ট্যাংকের ভিতর থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় জহিরুলের গলা ও হাত-পা বিচ্ছিন্ন ৬ টুকরা লাশ পাওয়া যায়। পরে নিহতের পিতা শেখ খোকন মিয়া ৮ জনকে বাদী করে সিঙ্গাইর থানায় মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে গত ২০১৭ সালের ৪ জুন সিংগাইর থানা আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করে। অভিযোগ পত্রে বলা হয় মাদক ব্যবসায় বাধা দেয়ার কারনে অভিযুক্তরা জহিরুল ইসলামকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে লাশ গুম করে। এই মামলায় মোট ২৭ জনের স্বাক্ষ্য নেয়া হয়।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবি সাইফুল ইসলাম এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।