রাজনীতি

২০০ আসনে মনোনয়ন দিচ্ছে জাতীয় পার্টি

আওয়ামী লীগের মিত্র জাতীয় পার্টি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ২০০ আসনে দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার চিঠি বিলি শুরু করেছে। দলটি আওয়ামী জোটের সঙ্গী হয়েই নির্বাচন করবে বলে আসছে। সে ক্ষেত্রে এত বেশি আসনে মনোনয়ন দেওয়াকে আওয়ামী লীগের ওপর চাপ রেখে বেশি আসন বাগিয়ে নেওয়ার কৌশল হিসেবে দেখছেন অনেকে। কর্মীদের দিক থেকেও দলের প্রতি বেশি আসনে মনোনয়ন দেওয়ার প্রবল চাপ রয়েছে।

জাতীয় পার্টির একটি সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত ৪৫ আসনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। তবে পার্টির কর্মীদের বিক্ষুব্ধতা সামাল দিতে ও আওয়ামী লীগের ওপর চাপ রাখতে ২০০ আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের চিঠি দেওয়া হচ্ছে। গতকাল সোমবার বিকেল থেকে এই চিঠি দেওয়া শুরু হয়েছে।

বিকেল সাড়ে ৩টায় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার দলের বনানী কার্যালয়ে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ও অপেক্ষমাণ গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘জাতীয় পার্টি মহাজোটেই নির্বাচন করবে, তবে এখনো আসন সমঝোতা না হওয়ায় দলের ২০০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। আশা করি, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আগেই আমরা আসন বণ্টনে সমঝোতায় আসতে পারব। দলের যেসব প্রার্থী মহাজোটের মনোনয়ন পাবেন না, তাঁরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন।’ গতকাল জাতীয় পার্টির প্রার্থী তালিকা ঘোষণার কথা থাকলেও কৌশলগত কারণে তা করা হচ্ছে না বলে জানান মহাসচিব।

রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘৫০টি আসনেও আমাদের সংকুলান হয় না, আমরা বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে অব্যাহত বৈঠক করে যাচ্ছি, সমাঝোতায় আসতে আরেকটু সময় লাগবে।’ তাঁর এ বক্তব্যের সময়ে পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ভেতর থেকে স্লোগান ওঠে, ৩০০ আসনেই প্রার্থী তালিকা চাই। আত্মীয়-স্বজনদের কয়েকটি আসন নিয়ে মহাজোটে যাওয়া চলবে না।

সূত্র অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টির সমঝোতা হওয়া আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে—সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা (ঢাকা-৪), কাজী ফিরোজ রশিদ (ঢাকা-৬), এইচ এম এরশাদ (ঢাকা-১৭), রওশন এরশাদ (ময়মনসিংহ-৪), সুনীল শুভ রায় (খুলনা-১), সালাউদ্দিন মুক্তি (ময়মনসিং-৫), ফখরুল ইমাম (ময়মনসিং-৮), মুজিবুল হক চুন্নু (কিশোরগঞ্জ-৩), লিয়াকত হোসেন খোকা (নারায়ণগঞ্জ-৩), সেলিম ওসমান (নারায়ণগঞ্জ-৫), মোস্তফা আল মাহমুদ (জামালপুর-২), এম এ সাত্তার (জামালপুর-৩), লে. জে. (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী (ফেনী-৩), নজরুল ইসলাম মিলন (কুমিল্লা-৮), রেজাউল ইসলাম (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২), মসিউর রহমান রাঙ্গা (রংপুর-১), এইচ এম এরশাদ (রংপুর-৩), মোস্তাফিজুর রহমান (কুড়িগ্রাম-১), পনিরউদ্দিন (কুড়িগ্রাম-২), ডা. আক্কাস আলী (কুড়িগ্রাম-৩), জি এম কাদের (লালমনিরহাট-৩), জাফর ইকবাল (নীলফামারী-১), আদিলুর রহমান (নীলফামারী-৪), শামীম পাটোয়ারী (গাইবান্ধা-১), শফিকুল ইসলাম জিন্না (বগুড়া-২), নুরুল ইসলাম ওমর (বগুড়া-৬), ইয়াহিয়া চৌধুরী (সিলেট-২), সেলিমউদ্দিন (সিলেট-৫), পীর ফজলুর রহমান (সুনামগঞ্জ-৪), আব্দুল মুনিম চৌধুরী (হবিগঞ্জ-১), নাসরিন জাহান চৌধুরী (বরিশাল-৬), এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার (পটুয়াখালী-১), ডা. রুস্তম আলী ফরাজী (পিরোজপুর-২), সৈয়দ দিদার বখত (সাতক্ষীরা-১), জিয়া উদ্দীন বাবলু (নীলফামারী-৪)।