ক্রীড়াঙ্গন

রেকর্ডের পানে নির্লিপ্ত তাইজুল

মাশরাফিকে ছাড়িয়ে গেছেন। মোহাম্মদ রফিকের খুব কাছাকাছি এখন আপনি। জানেন তো— তাইজুল ইসলামের নির্লিপ্ত উত্তর, ‘হ্যাঁ, জানি।’ সামনে তো আরও রেকর্ডের সুযোগ আছে, ‘আমি জানি’।

মিরপুর টেস্টে সাতটা উইকেট পেলেই কিন্তু ২০১৮ সালের সেরা বোলার হয়ে যাবেন। রেকর্ডটার কথা মাথায় আছে নিশ্চয়ই। এবারও তাইজুল খেললেন সোজা ব্যাটে। বললেন, ‘ভাই, আমি এসব রেকর্ড নিয়ে ভাবি না। চিন্তাও করি না। ভালো বোলিং করতে চাই। ভালো বোলিং করলে উইকেট পাব।’

সাংবাদিকদের আগ্রহ দেখেই কিনা ক্ষণিক পরেই বাঁহাতি এই স্পিনারের ভেতরের কথাও বের হয়ে পড়ল। হঠাতৎই তাইজুলের জিজ্ঞাসা— আচ্ছা ভাই, দক্ষিণ আফ্রিকার কি এ বছর আর ম্যাচ আছে?

উত্তরের অপেক্ষা না করেই ২৬ বছর বয়সী এই স্পিনার বললেন, রাবাদার তো ৪৬টা, আমার ৪০টা। কথাটা বলতেই তাইজুলের চোখেমুখে যেন আকাশ ছোঁয়ার রোমাঞ্চ খেলে গেল।

বাস্তবতা হচ্ছে, চলতি বছরে মিরপুরেই শেষ টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকা এ বছর আরেকটি টেস্ট খেলবে। আগামী ২৬-৩০ ডিসেম্বর সেঞ্চুরিয়নে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকা। রাবাদারও সেই টেস্টে খেলার কথা।

গতকাল তাইজুলের সঙ্গে যখন এই রেকর্ড সম্পর্কিত আলোচনা চলছিল, তখনও বছরের সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেট শিকারির তালিকায় শ্রীলঙ্কার দিলরুয়ান পেরেরার নামটা খুব বেশি উচ্চারিত হয়নি। গতকাল কলম্বোয় ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ হওয়া তৃতীয় টেস্টে আট উইকেট নিয়ে এই অফস্পিনার চলে এসেছেন তালিকার শীর্ষে। রাবাদার মতোই নয় ম্যাচে ৪৬টি উইকেট এখন দিলরুয়ানের ঝুলিতে।

চলতি বছরেই আরও দুটি টেস্ট খেলবে শ্রীলঙ্কা। নিউজিল্যান্ড সফরে ওয়েলিংটনে ১৫-১৯ ডিসেম্বর, ক্রাইস্টচার্চে ২৬-৩০ ডিসেম্বর টেস্ট খেলবে লঙ্কানরা। যেখানে দিলরুয়ান পেরেরার খেলার সম্ভাবনাও শতভাগ।

তাই শেষ পর্যন্ত তাইজুলের সামনে টেস্টে বছরের সেরা বোলার হওয়ার সুযোগটা ক্ষীণই বলতে হবে। তবে মিরপুর টেস্টে ছয় উইকেট পেলেই রাবাদা-দিলরুয়ানদের পাশে নাম লেখাবেন তিনি। সাত উইকেট পেলে বছরের সেরা টেস্ট বোলারের তালিকায় শীর্ষে চলে যাবেন তাইজুল। যদিও সেই স্থান একমাস অক্ষত থাকবে কিনা বলা কঠিন।

এক জায়গায় অবশ্য রাবাদা-দিলরুয়ানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশের এই স্পিনার। তিনি খেলেছেন মাত্র ছয় ম্যাচ। যেখানে রাবাদাদের ম্যাচ নয়টি। ম্যাচের সংখ্যা উল্লেখ করতেই তাইজুল বলেছেন, ‘ম্যাচ তো আমার কম ঠিক আছে। কিন্তু রেকর্ড তো হবে উইকেটের সংখ্যা দিয়ে।’

অবশ্য স্বল্পভাষী, সলজ্জ তাইজুলের সামনে রয়েছে আরও অর্জনের হাতছানি। ২২ টেস্টে এখন তার শিকার ৯৪টি। মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ছয় উইকেট পেলেই টেস্টে উইকেটের সেঞ্চুরি পূর্ণ হবে তার। নাম লেখাবেন মোহাম্মদ রফিকের পাশে। যা হবে বাংলাদেশের পক্ষে শততম উইকেট পাওয়ার রেকর্ড। এর আগে ২০১২ সালের নভেম্বরে ক্যারিয়ারের ২৭তম ম্যাচে ১০০ উইকেট নিয়েছিলেন সাকিব। ৩৩ ম্যাচে ১০০ উইকেট নিয়ে রফিক এখনও টেস্টে দেশের দ্বিতীয় সেরা উইকেট শিকারি।

ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে তাইজুল সাত উইকেট পেলেই ছাড়িয়ে যাবেন রফিককে। হয়ে যাবেন দেশের দ্বিতীয় সেরা টেস্ট বোলার। সামনে থাকবেন ২০১ উইকেট (চট্টগ্রাম টেস্ট পর্যন্ত) নিয়ে শীর্ষে থাকা সাকিব। বল হাতে মিরপুরে তাইজুলের এমন পারফরম্যান্সের সম্ভাবনাও প্রবল। এই মাঠে নভেম্বরের শুরুতে নিজের সর্বশেষ ম্যাচেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাত উইকেট পেয়েছিলেন তিনি।

চার বছরের ক্যারিয়ারে সেরা সময় কাটছে ২০১৮ সালে। আত্মবিশ্বাসী তাইজুলের মনের কোণে তাই রেকর্ডের হাতছানিও কিছুটা জায়গা দখল করে আছে। বলেছেন, ‘উইকেট যদি কপালে থাকে, আসলে ভালো বল করলে উইকেট পাওয়ার চান্সটা বেশি থাকে। আমি ভালো বল করার চেষ্টাটাই করবো।