জাতীয়

‘বঙ্গবন্ধুর ২ খুনীকে ফেরত পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডায় মামলা করেছে সরকার’

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পলাতক দুই খুনি রাশেদ চৌধুরী ও নূর চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দু’টি মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনতে দেশটির সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার আমাদের সহযোগিতা করছে। তাকে ফিরিয়ে আনতে ওখানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছে। আর কানাডার আইনে কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান নেই। এই কারণে আইনটিকে শিথিল করে নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কানাডায় একটি মামালা করেছে বাংলাদেশ সরকার। কানাডা সরকারের সঙ্গে এই ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা অব্যাহত আছে।

বঙ্গবন্ধুর ১২ খুনীর মধ্যে আইনি প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজনের ফাঁসি ২০১০ সালে কার্যকর হয়েছে। বাকিদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। আর ছয়জন পলাতক আছেন। তারা হলো- আব্দুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এম রাশেদ চৌধুরী, এসএইচএমবি নূর চৌধুরী, আব্দুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন। তাদের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারি করা আছে। পলাতক ছয় খুনীর প্রসঙ্গ টেনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এই ছয়জনকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জোরদার হচ্ছে।

সোমবার নূর চৌধুরীকে ফেরাতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী বরাবর অনলাইন পিটিশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ওবায়দুল কাদের। সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন গৌরব ৭১, কানাডা আওয়ামী লীগ অল ওভারসিস বাংলাদেশি ও ‘মুভমেন্ট ফর ডিপারটেশন অব কিলার নূর চৌধুরী টু বাংলাদেশ’ যৌথভাবে এই উদ্যোগ নিয়েছে।

আইপিটিশন নামক ওয়েবসাইটের এই লিঙ্কে অনলাইনে পিটিশন দাখিল করা যাবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. দীপু মনি বলেন, কানাডার মতো সভ্য দেশ বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত দণ্ডিত খুনির জায়গা হতে পারে না। এই খুনি ও তার দোসররা একটি দেশের জাতির পিতা, তার সহধর্মিণী, ১০ বছরের শিশুসন্তান রাসেলসহ ১৮ জন মানুষকে হত্যা করেছে। অথচ তারা গত ৪৩ বছর ধরে মুক্ত জীবনযাপন করছে।

নূর চৌধুরীর বিষয়ে কানাডা সরকারের কাছে দু’টি দাবি জানিয়ে সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কানাডা সরকারের অঙ্গীকার রক্ষার জন্য এই খুনিকে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিতে হবে। এছাড়া মৃত্যদণ্ডপ্রাপ্ত আত্মস্বীকৃত খুনিকে যেন মুক্ত জীবন-যাপনের সুযোগ দেওয়া না হয়। তাকে জেলখানায় রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মীজানুর রহমান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন প্রমুখ।