ক্রীড়াঙ্গন

এবারের টুর্নামেন্টে অনেক চ্যালেঞ্জ : মাশরাফি

উদ্বোধনী নেমে পড়তে হবে মাঠে, পরে দ্বিতীয় ম্যাচের জন্য অপেক্ষা করতে পাঁচ দিন। গ্রুপ পর্ব পেরুলে আবার সুপার ফোরে অপেক্ষা করছে ব্যস্ত সূচি। এর সাথে রয়েছে দুবাইয়ের অচেনা কন্ডিশন। যুক্ত হয়েছে টুর্নামেন্টকে ঘিরে সমর্থকের উঁচু প্রত্যাশাও।

সবমিলিয়ে শনিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এশিয়া কাপটা খুব একটা সহজ হতে যাচ্ছে না বাংলাদেশ দলের জন্য। গ্রুপ পর্বের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকলেও দুবাই বা আরব আমিরাতের উইকেট সম্পর্কে ধারণা নেই কারোই।

এর আগে সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা আরব আমিরাতে এসে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট খেলে গেলেও এবারই প্রথমবারের মতো ওয়ানডে ফরম্যাটে খেলতে আমিরাতে পৌঁছেছে দল। সময়ের হিসেবে প্রায় ২৩ বছর পর আমিরাতে বাংলাদেশ। সবশেষ ১৯৯৫ সালের এশিয়া কাপেই এখানে খেলেছে টাইগাররা।

১৯৯৫ সালে আরব আমিরাতে হওয়া সেই এশিয়া কাপ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু হয় মাশরাফি-সাকিবদের পূর্বসূরি হাবিবুল বাশার, খালেদ মাসুদ, মোহাম্মদ রফিকদের। দুই যুগ আগে স্রেফ কোটা পূরণ করতে এশিয়া কাপে অংশ নেয়া সেই দলটাই এখন রীতিমতো ফেবারিট। কাগজে কলমে টুর্নামেন্টের তৃতীয় সেরা দল। সকলের প্রত্যাশা এবার মিটবে অধরা ট্রফির পিপাসা।

তবে লক্ষ্যে পৌঁছানোটা যে খুব একটা সহজ পথ নয় তা জানা বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার। হংকংব্যতীত বাকি ৪ দলেরই রয়েছে আমিরাতে খেলার অভিজ্ঞতা। এই ক’দিন আগেই এখানে টেস্ট সিরিজ খেলে গেছে শ্রীলঙ্কা। ফলে আমিরাতের কন্ডিশন সম্পর্কে বেশ ভালো ধারণা রয়েছে হাথুরুসিংহের শিষ্যদের।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে বাংলাদেশ অধিনায়ক জানিয়েছেন অন্য সব দলের জন্য এখানে মানিয়ে যতটা সহজ, বাংলাদেশের জন্য ততটা নয়। তবে সেরা দল হতে এসব চ্যালেঞ্জ জয় করেই সাফল্য পেতে হবে বলে মনে করেন টাইগার অধিনায়ক।

শুক্রবার ম্যাচের আগের দিন ছয় দলের অধিনায়কদের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বলেন, ‘এখানের কন্ডিশন অনেক বড় একটা বিষয়। দিনের বেলায় গরমটাও গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের জন্য এখানে খেলা সহজ হবে। কারণ তারা এখানে সব সময়ই খেলে। শ্রীলঙ্কাও কিছুদিন আগে টেস্ট সিরিজ খেলে গেছে। তারা হয়তো কিছুটা হলেও আন্দাজ করতে পারবে।’

‘কিন্তু এখানকার উইকেট-আবহাওয়ার সঙ্গে আমরা অভ্যস্ত নই। আমাদের এই দলটা প্রথমবারের মতো এখানে খেলতে এসেছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে আমাদের দু-একজন এখানে খেলেছে। এছাড়া সবাই আরব আমিরাতে প্রথম। এসব আমাদের হাতে নেই। তার মানে এই নয় যে এসব নিয়ে পড়ে থাকব। আমাদের ইতিবাচক থাকতে হবে। এগুলো মানিয়ে নিতে পারলে ভালো দল হয়ে ওঠা যাবে।’

এসময় টুর্নামেন্টের ফরম্যাটটাও বড় একটি চ্যালেঞ্জ সেটিও মনে করিয়ে দেন মাশরাফি। গ্রুপে ভালো খেলে সুপার ফোরে উঠলে আবার খেলতে হবে টানা ম্যাচ। এসব চ্যালেঞ্জ উৎরে যেতে প্রথম ম্যাচ জয়ের বিকল্প নেই মাশরাফির মতে।

‘কাল (শনিবার) অনেক বড় ম্যাচ। হারলে দ্বিতীয় ম্যাচেও সুযোগ থাকবে। তবে প্রথম ম্যাচটায় ভালো করতে পারলে আমাদের জন্য ভালো হবে। দ্বিতীয় ম্যাচটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলতে পারব। আর এবার টুর্নামেন্টের ফরম্যাটও অন্যরকম। গ্রুপ পর্বে খেলে আবার চারটা দলকে খেলতে হবে। সূচিটাও দেখেন, টানা খেলা। এই টুর্নামেন্টে অনেক চ্যালেঞ্জ। প্রথম ম্যাচটা ভালো করলে সবদিক দিয়ে মানিয়ে নিতে সহজ হবে।’

এসময় সাংবাদিকদের কথায় উঠে আসে নিদাহাস ট্রফির সেই ম্যাচ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেদিন ‘অঘোষিত’ সেমি ফাইনাল ম্যাচে আম্পায়ারদের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন সাকিবরা। জল ঘোলা হয়েছে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যেও। তবে নতুন টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে এসব নিয়ে ভাবতে চাননা টাইগার অধিনায়ক।

‘এসব তো খেয়াল থাকে না। ভালো খেলে জেতাটাই মূল উদ্দেশ্য। এর বাইরে কী হলো না হলো, সেটা ভাবার বিষয় নয়। আর এগুলো মনে হয় না মাঠে কোনো গুরুত্ব আছে। কেউ তো কারও শত্রু না। দলের জন্য খেলতে গেলে উত্তপ্ত মুহূর্তে মাঠে কিছু ঘটনা ঘটে যায়। এসব আসলে কেউ মাথায় রাখে না। এগুলো অপ্রয়োজনীয় বিষয়।’