সারাদেশ

৫৩ দিন পর বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন শুরু

দীর্ঘ ৫৩ দিন বন্ধ থাকার পর আবার উৎপাদনে গেছে দেশের একমাত্র কয়লা ভিত্তিক বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা সরবারাহ পাওয়ায় শুক্রবার রাত ২ টা ২৭ মিনিটে উৎপাদন শুরু করতে পেরেছে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি।

তবে ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের মধ্যে নবনির্মিত ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি চালু করা সম্ভব হয়েছে। ফলে ওই ইউনিট থেকে ১৫৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে যোগ হচ্ছে। ইউনিটটি চালু হওয়ার পর পরই উত্তরাঞ্চলে লোড সেডিং ও লোভোল্টেজ কিছুটা কমেছে।

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হাকিম সরকার জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটের স্টিম বৃহস্পতিবার বিকেল ৫ টায় চালু করা হয়। শুক্রবার রাত ২ টা ২৭ মিনিটে চালু হওয়া ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। ওই সময়ে ১৫৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড করা হয়। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে এই উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে বলে জানান তিনি।

আব্দুল হাকিম সরকার বলেন, চালু হওয়া ইউনিটটি চালাতে প্রতিদিন প্রায় আড়াই হাজার মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হবে। আপাতত বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে ৮হাজার মেট্রিক টন কয়লা পাওয়া গেছে। ওই কয়লা দিয়েই উৎপাদন শুরু করা হয়েছে। কয়লার মজুদ বাড়লে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিট দুটিও চালু করা হবে।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমান জানান, প্রায় তিন মাস বন্ধ থাকার পর গত ৭ আগস্ট খনির ১৩১৪ নাম্বার ফেজ থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ৮ হাজার ৩৬২ মেট্রিকটন কয়লা উত্তোলন করা হয়েছে। ওই কয়লা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন ২ হাজার টনের মতো কয়লা উত্তোলন হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যে তা ৪ হাজার টনে উন্নীত হবে।

তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, বড়পুকরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিট চালাতে গেলে প্রতিদিন ৫ হাজার ২শ মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন। কয়লার মজুদ বৃদ্ধি না পেলে অবশিষ্ট ইউনিট দুটি চালু করা সম্ভব হবে না।

উল্লেখ্য, গত ১৯ জুন বড়পুকুরিয়া খনি থেকে ১ লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন কয়লা উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রকাশ পায়। কয়লা কেলেঙ্কারির এই ঘটনায় ৪ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণসহ ১৯ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পার্বতীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কয়লা উধাও ঘটনায় তিনটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে সরকার। তবে এখন পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। পরে গত ২২ জুলাই কয়লার অভাবে বন্ধ হয়ে যায় বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন। এর মধ্যে গত ঈদুল আযহার সময় একটি ইউনিট চালু করা হলেও কয়লার অভাবে ৯ দিন পর সেটি বন্ধ হয়ে যায়।