জাতীয়

২০২১ সালের মধ্যে শিশুশ্রম নিরসন : চুন্নু

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, দেশে ১২ লাখ শিশু শিশুশ্রমে জড়িত। সরকার শিশুশ্রম বন্ধে বদ্ধপরিকর। নীতিমালা হয়েছে। শিশুশ্রম বন্ধে আইন করার প্রক্রিয়াও চলছে। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে শিশুশ্রম নিরসন করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনে মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি, ২০১৫-এর আলোকে শিশু গৃহকর্মীর সুরক্ষা ও কল্যাণে করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের আয়োজনে ও শাপলা নীড়ের সহযোগিতায় এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ৪৭ বছর আগে পাকিস্তান আমলে ছিল প্রচণ্ড খাদ্য ও বস্ত্রের অভাব। একবেলা খাবারের জন্য মানুষ সারাদিন কাজ করতো। লেংটি পড়া ছিল সামাজিক আচার। কিন্তু সময় বদলে গেছে। এখন বাংলাদেশ খাদ্য ও বস্ত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ।

মন্ত্রী বলেন, ‘গৃহকর্মী নির্যাতন কারা করে? সেই বিবি সাহেবা কিংবা সাহেবরা কি সাইকো? মানসিকভাবে অসুস্থ? আসলে তা নয়, তারা সুস্থ মানসিকতা নিয়েই গৃহের শিশুকর্মীকে নির্যাতন করছেন। মাতৃস্নেহে নিজের সন্তানদের লালন পালনকারী মায়েরাই বেশি নির্যাতন করেন শিশু গৃহকর্মীদের। আবার গৃহকর্মীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার, যৌন নির্যাতনের মতো অপরাধ করবে সাহেব, আর সেই গৃহকর্মীর উপর বিবিসাহেবা ও তার সন্তানেরা নির্যাতন করে। শত শত কেস স্টাডিতে তাই দেখেছি। মানসিকতা যদি না বদলায় তবে এই সমস্যার সমাধান হবে না।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই মানবাধিকারের কথা বলে মুখে ফেনা তোলেন, তাদের উদ্দেশে বলছি, মানবাধিকারের দাবিতে স্লোগানবাজি না করে আগে নিজের ঘর ঠিক করুন, নিজের গৃহের শিশুকর্মীটির সঙ্গে মানবিক হোন। আমাদের দেশে আইন আছে, নীতিমালা আছে। কিন্তু সবাই মানি না। আবার অনেকে আইন ও নীতিমালা সম্পর্কে জানিই না। স্বার্থে ব্যাঘাত ঘটলে সবাই বিরোধিতা করি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশকে থেকে একেবারে শতভাগ শিশুশ্রম বন্ধ করা সম্ভব না। আবার উচিতও হবে না। কেন না সকল শিশুশ্রমকে আপনি শিশুশ্রম বলতে পারেন না। একটা শিশু তার কাঠমিস্ত্রি বাবাকে যখন সহযোগিতা করছে তখন তাকে শিশুশ্রমিক বলতে পারেন না। কারণ ওই শিশুটির অনেক দক্ষতা সেখান থেকে উন্নতি ঘটছে।

বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, শাপলা নীড়ের নীলা শামসুন্নাহার, দৈনিক যুগান্তরের সিনিয়র সাংবাদিক রিতা ভৌমিক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

আলোচনা সভায় নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের আয়োজনে ও শাপলা নীড়ের পক্ষ থেকে শিশুশ্রম ও গৃহকর্মী নির্যাতন বন্ধে ১৭টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়।