ক্রীড়াঙ্গন

অঙ্কুরেই বিনষ্ট হচ্ছে পেসাররা

ফাস্ট বোলারদের বল করার সুযোগ পাওয়া নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন দেশের হয়ে ৭টি টেস্ট খেলা পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি। পাশাপাশি দেশের উইকেট নিয়েও সমালোচনা করেছেন তিনি।

ক্রিকেটারদের উপরে উঠার মূল স্তম্ভ হচ্ছে ঘরোয়া ক্রিকেট। আর এখানে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হয় দেশের পেসাররা। স্পিনারদের তুলনায় পেসাররা বোলিংয়ের সুযোগ পায় না বললেই চলে। তাই শুরুতেই ফাস্ট বোলারদের শেখার জায়গা বন্ধ হয়ে যায় বলে মনে করেন রাব্বি।

হয়ত স্পিন নির্ভর উইকেট তৈরির কারণেই এমন অবহেলার শিকার হতে হয় পেসারদের। যা অনেক বোলারের বিকাশের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে বর্তমানে এই ধারাটা অনেক কমে এসেছে। পাশাপাশি উইকেটেরও অনেক পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন রাব্বি।

যা আগামিতে ভালো মানের পেসার তৈরিতে অনেক বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদী দেশের এই পেসার। মিরপুরের হোম অফ ক্রিকেটে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষায়,

‘আমরা জাতীয় লীগ, বিসিএলে খেলার সময় খুব বেশি বল করার সুযোগ পাই না। দেখা যায় যে নতুন বলে পেসাররা বল করার পর স্পিনাররা বলে আসে। দিন শেষে দেখা যায় একজন পেসার খুব গেলে ১২-১৩ ওভার বল করে আর সারাদিন ফিল্ডিং করে, আর স্পিনাররা দেখা যায় বল করছে ৩৫-৩৬ ওভার।

‘এমন করে হিসাব করলে দেখা যায় তিন জন স্পিনার মিলে ৯০ ওভারের মধ্যে ৭০ ওভার বল করে, আর দুইজন পেসার মিলে বল করে ২০ ওভার। আমাদের এমন উইকেট ও আবহাওয়াতেই আমরা এত কম বল করি। এতে আসলে আমার শেখার জায়গাটা কমে যায়। তবে গত দুই বছর ধরে উইকেটে অনেক তফাৎ দেখা গেছে।

‘প্রিমিয়ার লীগ, এনসিএলে আমরা ভালো ভালো উইকেট পাই, তখন কিন্তু আমরা বোলিং করার সুযোগ পাই। শীতের সময় জাতীয় লীগ বা বিসিএল খেলা হলে তখন পেসাররা অনেক বল করে। এছাড়া স্পিনাররাই বেশীরভাগ সময় বল করে থাকে। এই জন্যই আগে থেকে আমাদের উন্নতিটা কম হয়ে আসছে। এখন আমরা ভালো উইকেট পাচ্ছি, আশা করি আগামী কয়েকবছরে দেখবেন ভালো কয়েকজন বোলার পাওয়া যাবে।’

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নতুন মাঠ তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া ক্রিকেটারদের জন্য উন্নত মানের উইকেটেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কিন্তু এসব সুযোগ সুবিধা রাব্বিদের সময় ছিল না বলে জানিয়েছেন তিনি।

আর এ কারণেই অন্যসব দেশের বোলারদের তুলনায় অনেক পিছিয়ে তারা। তবে আগামীতে বাংলাদেশের পেস বোলিং আরও অনেক বেশি সমৃদ্ধ এবং শক্তিশালী হবে বলে বিশ্বাস করছেন ডানহাতি এই বোলার।

‘আমাদের সুযোগটা কম ছিল। এখন কিছুটা ঠিক হয়ে আসছে। শেষ কয়েক বছর ধরে আমরা ভালো উইকেট পাচ্ছি। খুলনায় ভালো উইকেট পাই, সিলেট-কক্সবাজার তো আগে ছিল না। এখন আস্তে আস্তে মাঠ বাড়ছে। এখন আমরা অনেকক্ষণ বোলিং করতে পারি, যা আগে হতো না। ওই জন্যই আমরা অনেক পিছিয়ে ছিলাম। তবে এখন অনেক উন্নতি হবে আশা করি।’