ক্রীড়াঙ্গন

মেসিদের কোচ হওয়া নিয়ে গার্দিওলার সোজা-সাপটা কথা

পেপ গার্দিওলার মতো এমন সফলতা ক’জনে পেয়েছেন? ক্লাবের হয়ে আর কিছুই জেতার বাকি নেই তার। এমনকি বিশ্বের সেরা তিন লিগের শিরোপাও জেতা শেষ। তবে একটি জায়গায় পেছনে রয়েছেন।

তার কি কখনো ইচ্ছে করে না জাতীয় দলের হয়ে কিছু জেতার? হাতেও তো দারুণ সুযোগ রয়েছে। সুযোগ লিওনেল মেসির কোচ হয়ে ফেরার।

রাশিয়া বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর চাকরি গেছে হোর্হে সাম্পাওলির। এরপর থেকে এখনও কোচহীন আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল। আর্জেন্টিনার সমর্থক-সংবাদমাধ্যমের বড় অংশ যে কোচ হিসেবে গার্দিওলাকে চায়!

যদিও আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার (এএফএ) প্রধান ক্লদিও তাপিয়া এই সম্ভাবনা বাতিল করে দিয়েছেন  ক’দিন আগে। বলেছেন, গার্দিওলাকে কোচ বানাতে মোটা মানিব্যাগ লাগে, যেটি আর্জেন্টিনার নেই। এই কথা শুনে আবার খেপেছেন গার্দিওলা। তিনি বলেছেন, বড় অঙ্কের টাকা হলেই গার্দিওলা কোচ হয়, এ কথা তাপিয়াকে কে বলল!

গতকাল ম্যানচেস্টার সিটির সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনার কোচ হওয়ার প্রসঙ্গটি উঠল। উঠে এল তাপিয়ার মন্তব্যও। তাপিয়ার কথায় গার্দিওলা যে বিরক্ত, সেটিও বোঝা গেল স্পষ্ট, ‘আমি অবশ্যই কিছুটা হলেও হতাশ। এএফএ সভাপতি বলতে পারেন না, আমরা পেপের সঙ্গে কথা বলতে পারব না, কারণ ওর বেতন অনেক বেশি। এ কথা বলতে আগে তো তাকে আমার বেতন জানতে হবে। দ্বিতীয়ত, ওনাকে জানতে হবে, আমি জানি কখন জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে হবে। ক্লাব সামলানো আর জাতীয় দল সামলানো একেবারেই ভিন্ন ব্যাপার। তৃতীয় আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো কেউ আমাকে জাতীয় দলের কোচ হওয়ার কোনো প্রস্তাবই দেয়নি।’

তাপিয়া এর আগে গার্দিওলাকে আর্জেন্টিনার কোচ বানানোর ব্যাপারে মন্তব্য করেছিলেন, ‌‘গার্দিওলাকে কোচ করাতে হলে কী করতে হবে, এটা নিয়ে আমরা চেষ্টা করে দেখেছি। এটা খুব কঠিন। খুবই কঠিন। কারণ, আপনার মোটা মানিব্যাগ থাকতে হবে। ওনার যা বেতন, তাতে এটা অসম্ভব।’

এবার জবাবেই গার্দিওলা মুখ খুলেছেন। বলেছেন, ‌‘অবশ্যই এখানে (সিটিতে) আমার চুক্তি আছে। চুক্তির মেয়াদ আমি পূর্ণ করতে চাই। তবে উনি যে কারণ বলেছেন (বেতন), সেটি অবশ্যই সঠিক নয়।’

তবে কি বেতন কম হলেও আর্জেন্টিনা দলের দায়িত্ব নেবেন গার্দিওলা? এখানেও একটি ব্যাখ্যা আছে তার, ‌‘আরেকটা বড় ব্যাপার হলো, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ হতে হলে আপনাকে আর্জেন্টিনার কেউ হতে হবে। আর্জেন্টিনার অনেক কোচও আছেন, যারা সত্যিই কোচ হিসেবে দারুণ। আমার তাই আর্জেন্টিনার কোচ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ভবিষ্যতে কী হবে, তা তো আর কেউ বলতে পারে না। তবে দয়া করে এটা বলবেন না, পেপের বেতন অনেক বেশি, ওকে আমরা নিতে পারব না। কারণ, তা বলার আগে অবশ্যই আমার সঙ্গে কথা বলে সব জেনে নিতে হবে। তাহলে আর ভুল হবে না।’

গার্দিওলা বেতনে এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা ৫ কোচের একজন। তবে তার চেয়ে হোসে মরিনহো প্রায় দ্বিগুণ আয় করে থাকেন। গার্দিওলার বেতন বছরে ১ কোটি ৪৫ লাখ ইউরো। যেখানে মরিনহোর বেতন বছরে ২ কোটি ৮০ লাখ।