সারাদেশ

তাকানো যায় না আরাফাতের দিকে

মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়স আরাফাতের। এরই মধ্যে হারিয়ে ফেলেছে দু’চোখের আলো। জন্মের তিন মাস পরই তার বাম চোখে টিউমার দেখা দেয়। ধীরে ধীরে এর আকার বড় হতে থাকে। এখন সেই টিউমারটি ক্যান্সারে পরিণত হয়েছে। এ কারণে সে আর ডান চোখেও দেখতে পাচ্ছে না। দু’চোখই দেখছে না সে। ছেলের এই করুণ অবস্থাতেও চিকিৎসা চালাতে পারছে না তার পরিবার।

আরাফাত লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর কেরোয়া গ্রামের সবুজ মিয়ার ছেলে। সবুজ পেশায় একজন নির্মাণ শ্রমিক। তার উপার্জনে চলে সংসার। ছেলের চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে বাকি আছে শুধু তিনি ভিটে-মাটি বিক্রি করা। এখন তার পক্ষে আর ছেলের চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না।

তিন মাস বয়স থেকে আরাফাতের চোখের সমস্যা। চিকিৎসকরা বলেছেন, তার চোখের টিউমারটি ক্যান্সারে পরিণত হয়েছে। ঘুমাতে গেলে সেই টিউমার থেকে এখন রক্তও পড়ছে।

আরাফাত বর্তমানে মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেখানে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. আশীষের অধীনে ভর্তি রয়েছেসে। চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে কেমো থেরাপি দেয়া হচ্ছে। প্রতিটি কেমো থেরাপি দিতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। তবে কতটি থেরাপি দিতে হবে তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি আরাফাতের বাবা।

জানতে চাইলে সবুজ মিয়া জানান, চোখের অসুখ ভেবে ঢাকায় শেরে বাংলা চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও কুমিল্লার দুটি হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়। অপারেশনও করা হয়েছে। কিন্তু কোনো উন্নতি হয়নি। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার চোখে ক্যান্সার সনাক্ত করেছেন চিকিৎসকরা।

তিনি আরও জানান, এখন আরাফাতকে নিয়ে তিনি মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে আছেন। সেখানে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. আশীষের চিকিৎসাধীন আছে আরাফাত। চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে কেমো থেরাপি দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি কেমো থেরাপি দিতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। তবে কতটি থেরাপি দিতে হবে তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি তিনি। অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা অব্যাহত রাখা নিয়ে সবুজ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ছেলেকে বাঁচাতে তিনি সরকার, সমাজের ধনী ও বিত্তবানসহ সকল স্তরের মানুষের আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন।

রায়পুর উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর সদস্য (মেম্বার) খোরশেদ আলম জাগো নিউজকে বলেন, আরাফাতের চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে সবুজ মিয়া প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। সুচিকিৎসা পেলে নিষ্পাপ শিশুটি সুস্থ জীবন ফিরে পাবে। আরাফাতের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করতে পারেন তার বাবা সবুজ মিয়ার ০১৮৭০৩৩০৩৪৩ সঙ্গে।