সারাদেশ

ধীর গতিতে চলছে ভারতীয় অনুদানের উন্নয়ন কাজ

রাজশাহী নগরীতে বাস্তবায়নাধীন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পরিবেশ এবং প্রত্নতত্ত্ব অবকাঠামোর উন্নতি সাধন ও সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা দিয়েছে। ২১ কোটি ৯৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ভারতীয় অনুদানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ পর্যন্ত অর্থ বরাদ্দ এসেছে ১০ কোটি ৯২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অর্থ ছাড়ে বিলম্ব হওয়ায় গতি পাচ্ছে না নির্মাণ কাজ।

জানা গেছে, মানসম্মত ভৌত অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে নগরীতে টেকসই জনবান্ধব উপযোগী পরিবেশ উন্নয়ন করা; পাঠাগার ও মিলনায়তন নির্মাণের মাধ্যমে নগরীর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করা; ফুটপাত ও মন্দির প্রত্নতত্ত্ব অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং জলাশয় সংরক্ষণ এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য।

২০১৫ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৭ সালের জুনে। নির্মাণ কাজে বিলম্ব হওয়ায় সময়সীমা বাড়িয়ে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয়ের পুরোটাই আসবে ভারতীয় অনুদান হিসেবে। এই কাজ বাস্তবায়ন করছে রাজশাহীর আরসিসিএল-আরই-এমসি (জয়েন্ট ভেঞ্চার)।

রাসিক জানিয়েছে, নগর পদ্মা আবাসিক এলাকা ও বিসিক শিল্প এলাকার দুটি পুকুরের ওয়াকওয়েসহ ১০৪৩ দশমিক ৯৩ মিটার পাড় বাঁধানো হবে এই প্রকল্পে। এতে ব্যয় ধরা হয় ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্মাণ হয়েছে ৮৮০ মিটার। শতকরা হিসেবে যা দাঁড়ায় ৮৪ শতাংশের ওপরে।

এই প্রকল্পে ৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৭ দশমিক ৯৪ কিলোমিটার ফুটপাত নির্মাণের কথা। ৭৮ দশমিক ৩২ শতাংশ হারে নির্মাণ হয়েছে ১৪ দশমিক ০৫ কিলোমিটার। ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬টি মন্দির পুনর্নির্মাণ করার কথা থাকলেও কাজ শেষ হয়েছে ৫টির।

বড় দুটি কাজের মধ্যে একটি ১৭৯৯ দশমিক ৫৫ বর্গমিটার আয়োতনের পদ্মা লাইব্রেরি নির্মাণ। ৩ কোটি ৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে এতে। কাজ শেষ হয়েছে ৭৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এছাড়া ২০৫৮ বর্গমিটার আয়োতনে রাজশাহী সাংস্কৃতিক সংঘের মিলনায়তন নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। কিন্তু এই কাজের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পাঁচ তলা পদ্মা লাইব্রেরি ভবন নির্মাণ শেষ। এখন চলছে ফিনিশিং। আর চার তলা রাজশাহী সংঘ ভবন নির্মাণের পাইলিং শেষ করে মাটি সরানোর কাজ চলছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ঢালাইয়ের কাজ শুরু হবে। পুকুর দু’টিরও অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হয়েছে আগেই। খুব শিগগিরই শুরু হবে টাইলস লাগানোর কাজ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বরাদ্দ না থাকায় এবং কোনো অর্থ ছাড় না হওয়ায় প্রকল্পের আওতাধীন ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ কাজ চলছে ধীর গতিতে। বিষয়টি উঠে এসেছে প্রকল্প পরিচালকের মূল্যায়নেও। সময়মতো কাজ শেষ করতে দ্রুত অর্থ ছাড়ের প্রতি জোর দিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

জানতে চাইলে প্রকল্পের ঠিকাদার তৌরিদ আল মাসুদ রনি বলেন, মাঝে অর্থ ছাড় জটিলতায় তারা বিড়ম্বনায় পড়েছিলেন। মাস ছয়েক তাতে কাজ চলেছে ধীর গতিতে। তবে এখন সেই সঙ্কট নেই। এ বছরের জুনের মধ্যেই প্রকল্পের সব কাজ শেষ করতে পারেন তারা। তবে বিলম্বে শুরু করায় রাজশাহী সংঘ ভবন নির্মাণ শেষ হতে সময়সীমা পেরিয়ে যাবে।

বিষয়টি স্বীকার করেছেন নগর সংস্থার প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হকও। তিনি বলেন, পদ্ধতিগত জটিলতায় মাঝে কিছু সময়ের জন্য অর্থ ছাড় বিলম্বিত হয়েছে। তবে কাজ চালিয়ে গেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এখন সেই জটিলতা কেটে গেছে।

তবে সময়সীমার মধ্যেই প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে জানিয়ে প্রধান প্রকৌশলী বলেন, অন্যান্য কাজগুলো সময়মতো শেষ হবে। তবে জমি বুঝে পেতে বিলম্ব হওয়ায় সাংস্কৃতিক সংঘের মিলনায়তন নির্মাণকাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই কাজ হয়েছে ২৫ শতাংশের মতো। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে এই কাজ শেষ হতে আরও কয়েকমাস সময় লাগতে পারে।