সারাদেশ

গরুর রশি ছেঁড়া প্রতিযোগিতা

লাঠি খেলা, ঘোড়দৌড়, গরু দৌড় বা গরুর রশি ছেঁড়া আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী কিছু খেলার নাম। গরুর রশি ছেঁড়া প্রতিযোগিতা গ্রামবাংলার একেক অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। কোথাও গরু দৌড়, গরুর রশি ছেঁড়া, আড়ং নামেও এ প্রতিযোগিতা বাঙালির ইতিহাসকে মনে করিয়ে দেয়। পৌষসংক্রান্তি উপলক্ষে গ্রামবাংলার বিভিন্ন মেলায় এ খেলা দেখা যেত। এ খেলা এখন তেমন চোখে পড়ে না। হারিয়ে যাওয়া এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে।

পৌষসংক্রান্তি উপলক্ষে রোববার বিকেলে গরুর রশি ছেঁড়ার এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় চর হরিরামপুর ইউনিয়নের বিসাই মাতব্বরের ডাঙ্গীর মাঠে। হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী এই খেলা দেখতে ভিড় করেছিলেন কয়েক হাজার মানুষ।

চর হরিরামপুর ইউনিয়নের এলাকাবাসীর উদ্যোগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিক্সন চৌধুরী আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, গত বছরও আমি এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলাম। অনুষ্ঠানটি আমাকে মুগ্ধ করে। তাই আবার এই অনুষ্ঠানে এসেছি। এখানে সব বয়সের হাজার হাজার নারী-পুরুষ এসে আনন্দ উপভোগ করছেন। আমাদের যুবসমাজ বর্তমানে মাদকের ভয়াল ছোবলের শিকার। আমি মনে করি, গ্রামবাংলার এ ঐতিহ্যবাহী খেলা প্রতিটি উপজেলায় আয়োজন করা উচিত, যাতে যুবসমাজ লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোনিবেশ করে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে মুক্ত হতে পারে।’

প্রতিযোগিতা উপলক্ষে দুপুরের পর থেকে সৌখিন গরুর মালিকরা বাদ্যযন্ত্র, লাঠি খেলোয়াড় ও তাদের ষাঁড় নিয়ে হাজির হনমাঠে। দেখতে দেখতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় রাস্তা ও মাঠ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে চরভদ্রাসন উপজেলা চেয়ারম্যান এজিএম বাদল আমিন, ভাইস চেয়ারম্যান তানজিয়া আক্তার, মো. কাউসার হোসেন, গাজিরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলী, হরিরামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমির হোসেন খান, কবিরুল আলম, ইঞ্জিনিয়ার নিজামউদ্দীন, ইঞ্জিনিয়ার লুৎফর রহমান, কে.এম. ওবায়দুল বারি দিপু, আনোয়ার আলী মোল্যা, মো. বাবুল খান, মো.বজলু মৃধা, মো. জুলহাস মেম্বার, মো. মোশাররফ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিযোগিতায় মোট ৯০ টি গরু অংশ নেয়। প্রথম পুরস্কার ২১ ইঞ্চি এলইডি টিভি পান ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার মো. আজিজ মোল্যা, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার ২১ ইঞ্চি কালার টিভি পান যথাক্রমে দোহারের আসলাম বেপারী ও চরভদ্রাসন উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের শেখ আবুল। এ ছাড়া প্রতিটি গরুর মালিককে সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে একটি করে বালতি দেয়া হয়।