সারাদেশ

শিমের বাম্পার ফলনেও দাম নিয়ে শঙ্কায় চাষি

কোনো ধরনের রোগ বালাই ও পোকার আক্রমণ না থাকায় ভোলায় এ বছর শিমের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু বাজারে দাম কম থাকায় লাভ নিয়ে শঙ্কায় কৃষকরা।

কৃষকদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, ভোলার সাত উপজেলায় গত কয়েক বছর ধরে শিমের আবাদ ভালো হওয়ায় কৃষকরাও এ সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। এদের মধ্যে ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের চাষিরা এবারও প্রচুর শিমের আবাদ করেছেন। ফসলের খেতে শিমের সমারোহ। হেক্টর প্রতি আবাদ বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ পুষিয়ে অনেকে লাভের মুখ দেখছেন।

সদরের কোড়ালিয়া গ্রামের শিমচাষি মজনু মিয়া জানান, এ বছর শিমখেতে কোনো পোকার আক্রমণ নেই। ফলনও গত কয়েক বছরের চেয়ে ভালো হয়েছে। তবে বাজার দাম অনেক কম।

বোরহানউদ্দিন উপজেলার জয়া গ্রামের চাষি আনিছুল হক বলেন, এক একর জমিতে প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ করে শিম চাষ করেছি। ফলন অনেক বেশি হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করেছি। কিন্তু পাইকারি বাজারে শিমের দাম অনেক কম।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ভোলার সাত উপজেলায় শিম আবাদ হয়েছিল ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে। আর উৎপাদন হয়েছিল ২৩ হাজার ১০০ মেট্রিক টন। এ বছর শিম আবাদ হয়েছে ১ হাজার ২০৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনও গত বছরের চেয়ে বেশি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ দেবনাথ বলেন, মাটি ও আবওয়া অনুকূলে থাকায় শিমের বাম্পার ফলন হয়েছে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সঠিক পরামর্শ দেয়ায় খেতে কোনো ধরনের পোকা-মাকড়ের আক্রমণ নেই। ভোলায় উৎপাদিত শিম জেলার চাহিদা মিটিয়ে চট্টগ্রাম, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হচ্ছে।