রাজনীতিসারাদেশ

বিএনপি-জামায়াতে কোনও পার্থক্য নেই : সাবেক বিচারপতি শামছুদ্দিন

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামছুদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। দুটোই মুক্তিযুদ্ধকে বিশ্বাস করে না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেখানে অসম্প্রদায়িক বা ধর্মভিত্তির রাজনীতি না করার কথা বলেছেন, সেখানে জিয়াউর রহমান ধর্মভিত্তিক রাজনীতি তৈরি করেন। জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই বাংলাদেশে জামায়াত ক্ষমতায় আসে।

রোববার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ পৌরসভার আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামছুদ্দিন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে খালেদা জিয়া কারাগারে। কিন্তু দেশের ষড়যন্ত্র সৃষ্টিকারী দুজন লন্ডনে বসে পরিকল্পনা করছেন। তারা হলেন-বেগম জিয়ার পুত্র তারেক জিয়া ও ব্যারিস্টার রাজ্জাক। ব্যারিস্টার রাজ্জাকও একজন রাজাকার ছিলেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে প্রমাণ জোগাড় করতে করতে তিনি বিদেশে পালিয়ে যান।

তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আমাদের স্লোগান ছিল- রাজাকার বা মুক্তিযোদ্ধের বিপক্ষের শক্তি যেন ক্ষমতায় না আসে। সেই সঙ্গে যারা বিরোধীদলে থাকবে তারাও যেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের হয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আমাদের থাকতে হবে। আজকে যদি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি ক্ষমতায় আসতো তাহলে ৯/১১ এর চেয়ে খারাপ অবস্থা হতো দেশের।

অন্যদিকে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গণধর্ষণে কোনও রাজনৈতিক বা ভোট সংক্রান্ত কোনও কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে সাবেক এ বিচারপতি বলেন, এ ঘটনার তদন্ত থেকে জানা যায়, যে গণধর্ষণের ঘটনা হয়েছে পূর্ব শক্রুতার জেদ ধরে।

এ ঘটনার ব্যাখ্যা করে অ্যাডভোকেট ইয়াদিয়া জামান বলেন, এ ঘটনায় আমরা তদন্তে গিয়েছিলাম। ঘটনার জট কিন্তু অনেক গভীরে। এ ঘটনায় আমরা কোনও নির্বাচনী কারণ খুঁজে পাই নাই। ধর্ষিতা ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন, সেই ঘটনা পূর্ব শত্রুতার জেদ ধরে।

আলোচনা সভা শেষে সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামছুদ্দিন চৌধুরীকে সংবর্ধনা ক্রেস্ট তুলে দেন পৌর মেয়র নাদের বখত।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোটেক শুকুর আলীর পরিচালনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পৌর মেয়র নাদের বখত। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আমজাদ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন, অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, ব্যারিস্টার কাউসার আহমেদ, জগৎ জ্যোতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সালেহ আহমেদ, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদুল্লাহ সরকার, অ্যাডভোকেট ইয়াদিয়া জামান, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিমান কান্তি রায়, সাংস্কৃতিক কর্মী প্রদীপ পাল নিতাই, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক আরিফ-উল-আলম প্রমুখ।