জাতীয়

শ্বাসরোধে হত্যা, ‘ধর্ষণ’ নিশ্চিত নয়

রাজধানীর ডেমরায় নিহত দুই শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা চিকিৎসকদের। মঙ্গলবার দুপুরে দুই শিশুর মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে প্রাথমিকভাবে এমন মত দেন তারা।

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক নওশাদ মাহমুদ বলেন, ‘ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতের আগে মৃত্যুর নিশ্চিত কারণ বলা যাবে না। তবে এতটুকু বলতে পারি, দুই শিশুর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। শ্বাসরোধে মৃত্যুর আলামত মিলেছে। মৃত্যুর আগে ধর্ষণ হয়েছে কিনা- সে বিষয়ে এখনও কিছু বলা যাচ্ছে না।’

ফরেনসিক বিভাগ সূত্র জানায়, ধর্ষণ হয়েছে কিনা- বিষয়টি নিশ্চিত হতে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে আরও কিছু সময় লাগবে। তবে শ্বাসরোধে মৃত্যুর বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত।

পুলিশের তৈরি সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত শিশু নুসরাত জাহানের কপালে অর্থাৎ বাম চোখের ওপরে চাপলাগা কালচে দাগ রয়েছে। নাকের ওপরেও কালচে দাগ রয়েছে। তবে তার কান ও যৌনাঙ্গ স্বাভাবিক।

নিহত শিশু ফারিয়া আক্তার দোলা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, তার গলার ডানপাশের সামনের দিকে কালচে দাগ রয়েছে। তবে তার যৌনাঙ্গ, নাক ও কান স্বাভাবিক।

প্রসঙ্গত, রাজধানীর ডেমরায় একটি ফ্ল্যাট থেকে গতকাল সোমবার দুই শিশু নুসরাত জাহান (৪) ও ফারিয়া আক্তার দোলার (৫) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশু দুটি গতকাল দুপুর থেকে নিখোঁজ ছিল। রাত ৯টার দিকে তাদের মরদেহ পাওয়া যায়।

নুসরাত ও দোলা ডেমরা কোনাপাড়ার হযরত শাহ জালাল রোডে টিনশেড ও পাকা ভবনের পৃথক দুটি বাসায় বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতো।

দোলার চাচা রাশেদুল ইসলামের ভাষ্য, গতকাল দুপুরে খেলা করার পর থেকে শিশু দুটিকে পাওয়া যাচ্ছিল না। খোঁজাখুঁজি শেষে তাদের না পেয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়। যখন মাইকিং করা হচ্ছিল, তখন এলাকার এক যুবক তাদের বলেন, স্থানীয় মোস্তফা নামের এক ব্যক্তি দুপুরের পর শিশু দুটিকে ডেকে তার ফ্ল্যাটে নিয়ে যান।

যুবকের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে মোস্তফার খালা সেই ফ্ল্যাটে যান। তিনি শিশু দুটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় মোস্তফা যাতে ঘর থেকে বের হতে না পারে, সে জন্য তিনি (খালা) বাইরে থেকে তালা দিয়ে আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। তবে লোকজন এসে মোস্তফাকে ঘরে পাননি।

রাশেদুলের ধারণা, মোস্তফা হয়তো কৌশলে পালিয়ে যান।

এলাকাবাসী জানায়, মোস্তফা পেশায় পোশাকশ্রমিক। তিনি স্ত্রী ও এক শিশুসন্তান নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকতেন।

ওই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে মোস্তফার স্ত্রী ও শ্যালককে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার তাদের আটক করে ডেমরা থানায় নেয়া হয়। ডেমরা থানার পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) নূরে আলম সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।