ক্রীড়াঙ্গন

আটে আত্মবিশ্বাসী রুবেল

অসুস্থতায় কাবু হয়ে পড়েছিলেন। যে কারণে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিসিএল) খেলতে পারেননি রুবেল হোসেন। জ্বরের প্রকোপ কাটিয়ে ক্রিকেটে ফেরার কক্ষপথে রয়েছেন। সামনে বাংলাদেশের অনেকগুলো ক্রিকেট সিরিজ। নিজের সুস্থতার ঘোষণা দিয়ে জাতীয় দলেই চোখ এই পেসারের, ‘এখন সুস্থ আছি। মাঝে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম, জানি না কেন। হয়তো আবহাওয়ার কারণেই। দ্রুত আবার কাজ শুরু করব।’

বাংলাদেশ দলের পরবর্তী সিরিজ আফগানিস্তানের বিপক্ষে; ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। আর পূর্ণাঙ্গ সিরিজের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যেখানে টেস্ট-ওয়ানডে-টি টোয়েন্টি সব ফরম্যাটেই খেলবে দল। আর ওই সফরে ভালো করার ব্যাপারে আশাবাদী রুবেল। যে আশাবাদে জ্বালানি জোগাচ্ছে র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি।

সদ্য প্রকাশিত আইসিসি টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে আট নম্বরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে তো আগে থেকেই পিছিয়ে ছিল, এবার পেছনে ফেলেছে ক্যারিবিয়ানদের। জুন-জুলাইয়ের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তাই অতীতের চেয়ে ভালো করার সুযোগ দেখছেন রুবেল, ‘টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে এক ধাপ ওপরে উঠে গেছি আমরা। এটা বাংলাদেশের অনেক বড় অর্জন। এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ আমাদের নিচে, এটা মাথায় থাকবে। আমাদের ক্রিকেটারদের অনেক সহায়তা করবে, আত্মবিশ্বাস জোগাবে। দ্রুত মানিয়ে নেওয়া যাবে।’ নিজে পেসার হিসেবে পেস বোলারদের ভালো করার আশাবাদও তাঁর কণ্ঠে, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজে তো আগেও খেলেছি। ওখানে বোলারদের জন্য মোটামুটি সাহায্য থাকে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ওরা চাইবে পেস সহায়ক উইকেট; কারণ ওদের পেস বোলিং মোটামুটি শক্তিশালী থাকে। আর আমরা পেসার যারাই যাই, ওখানকার কন্ডিশন, উইকেট অনুযায়ী ভালো বোলিং করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রস্তুতিটাও গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি, প্রস্তুতি ম্যাচের সুযোগ আমরা কাজে লাগাতে পারব।’

খুব দূরে নয়। ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে সে আসর। আর টুর্নামেন্টটি যখন বিশ্বকাপ, সেটি রুবেলকে বাড়তি প্রেরণা না জুগিয়ে পারে! ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় জয়ে তাঁর ওই দুই উইকেট যে বাংলাদেশের ক্রিকেট রূপকথার চিরন্তন অংশ। সামনের বিশ্বকাপে অমন স্মৃতি ফিরিয়ে আনা পারফরম্যান্স উপহার দিতে চান রুবেল, ‘ইংল্যান্ডে আমরা অনেক খেলেছি। ওখানে আমার দু-একটা ভালো স্মৃতি আছে। যদি সুস্থ থাকি এবং বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাই, তাহলে চেষ্টা করব সেরাটা দিতে, ভালো স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে।’ কাজটি যে সহজ হবে না, তাও জানেন অভিজ্ঞ এই পেসার। কারণ উইকেটে তো বোলারদের জন্য তেমন সহায়তা থাকে না। এই বাস্তবতা মেনে নিয়েই প্রস্তুতি নিতে চান রুবেল, ‘শুধু ইংল্যান্ডে নয়, সব জায়গায় একই অবস্থা। দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার আগে আমরা শুনেছি সেখানকার উইকেটে বাউন্স থাকবে; পেসারদের জন্য সহায়তা থাকবে। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার গিয়ে দেখলাম উইকেট ফ্ল্যাট। আসলে সবাই এখন রান দেখতে চায়। দর্শকেরা চায়, আইসিসি চায়। বাংলাদেশের উইকেটেও ৩০০ রান হতে দেখি। বাইরেও হয়তো সেটাই হবে। সেভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।’

ওই প্রস্তুতিপর্বে বোলারদের নিত্যনতুন কৌশল রপ্ত করতে হচ্ছে। এবারের আইপিএলে যেমন সাড়া ফেলেছে ‘নাকল বল’। তা নিয়েও অনুশীলন করছেন বলে জানালেন রুবেল, ‘এটা নিয়ে অনেক আগেই অনুশীলন করেছি। নিউজিল্যান্ডে দু-একটা বল অ্যাপ্লাই করেছি। ভালো হয়েছে। এখন এটা নিয়ে আমাকে আরেকটু কাজ করতে হবে।’

Leave a Reply