সারাদেশ

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন সোহেল রানা, টিকে গেলেন পঙ্কজ ও জ্যাকব

আপিল শুনানির দ্বিতীয় দিনে প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন বরিশাল-২ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী চিত্রনায়ক মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা।

আর বরিশাল-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথ ও ভোলা-৪ আসনে নৌকার প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল খারিজ হয়ে যাওয়ায় তাদের প্রার্থিতা টিকে গেছে।

নির্বাচন ভবনের একাদশ তলায় শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দ্বিতীয় দিনের শুনানি চলছে। জমা পড়া মোট ৫৪৩টি আপিলের মধ্যে আবেদনের ক্রমিক নম্বর অনুসারে ১৬১ থেকে ৩১০ নম্বর পর্যন্ত আপিলের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে এদিন।

বেলা ১টা পর্যন্ত মোট ৭৮টি আবেদনের শুনানি করেছে কমিশন, যার মধ্যে ৪৯ জন প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন। এছাড়া ২৮টি আপিল নামঞ্জুর হয়েছে; একটি ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।

এর আগে শুনানির প্রথম দিন বৃহস্পতিবার ১৬০টি আবেদনের শুনানি করে ৮০ জনের প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানরীপাড়া) আসনের প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু ৪১৪৭ টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে রিটার্নিং কর্মকর্তা।

বকেয়া থাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছিলেন সোহেল রানা। শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন তা মঞ্জুর করায় আশির দশকের জনপ্রিয় এই চিত্রনায়ক প্রার্থিতা ফিরে পান।

শুনানি শেষে সোহেল রানা সাংবাদিকদের বলেন “রিটার্নিং কর্মকর্তা আইন মেনেই আমার মনোনয়ন বাতিল করেছিল। কেননা আমার বিলের কিছু টাকা বাকি ছিল। সেটি আমি পরিশোধ করে দিয়েছি। আদালতের ওপর শ্রদ্ধা আছে বলেই আমি আবেদন করেছি এবং প্রার্থীতা ফিরে পেলাম।”

আওয়ামী লীগের প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথ আওয়ামী লীগের প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথ বরিশাল-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথের মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন মেজবাহ উদ্দিন সরকার ও মাহাবুবু আলম। শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন তাদের আপিল নামঞ্জুর করলে পঙ্কজ দেবনাথের প্রার্থিতা টিকে যায়।
আপিলকারীদের অভিযোগ ছিল, ২০০৭ সালে একটি দুর্নীতি মামলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথের ১৩ বছরের সাজা হয়েছিল। সেই তথ্য তিনি মনোনয়নপত্রে গোপন করেছেন।

শুনানি শেষে পঙ্কজ দেবনাথ সাংবাদিকদের বলেন, “সেই মামলায় আমি খালাস পেয়েছি। আপিল বিভাগের ফুল বেঞ্চে লিভ টু আপিল গ্রহণ করা হয়নি। আমার বিরুদ্ধে ১/১১ এর কুশিলবরা যে অভিযোগ এনেছিল, তা ভিত্তিহীন, অসত্য, মিথ্যা ছিল। সর্বোচ্চ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে আমি নিরপরাধ।

“কিন্তু হাই কোর্টের রায় গোপন করে আমার বিরুদ্ধে আপিল করেছেন উনারা।… আমার আইনজীবীরা সত্যটা তুলে ধরতে পেরেছে, ফলে আমি প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছি।”

ফুরফুরে মেজাজে থাকা এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, আপিল করা, তার শুনানি- এটাও নির্বাচনী উৎসবের অংশ।

ভোলা-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতির অভিযোগ এনে তাদের মনোনয়নপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করেছিলেন বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন আলম। শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন তা নামঞ্জুর করলে জ্যাকবের ভোটের পথে বাধা কেটে যায়।