রাজনীতি

ইসির আপিল নিষ্পত্তিও সরকারের নির্দেশনায়: রিজভী

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা করার পরদিনই ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, মনোনয়ন বাতিল হওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের আপিল নিষ্পত্তির কাজটি কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন ‘সরকারের নির্দেশনা’ অনুযায়ী করছে।

রিজভী বলেন, ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম, নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম ও নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। কিন্তু তাদের ভূমিকা ‘ক্ষমতাসীন দলের স্বার্থের’ পক্ষে বলে অভিযোগ রয়েছে।

“সবাই বলছেন যে, তারা কাজ করছেন ঠিকই। কিন্তু তাদের কাজ-কর্মের মধ্যে এক ধরনের ক্ষমতাসীন দলের প্রতি টান, আনুকূল্য ও তাদের স্বার্থের পক্ষে কাজ করছেন- এই কথাটি বেশ ছড়িয়ে পড়েছে।”

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম নিয়মিত ওই তিন নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে টেলিফোনে নির্বাচনের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন রিজভী।

তিনি বলেন, “জনান্তিকে নানা কথা ভেসে বেড়ায়। সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব এদের মধ্যে সিনিয়র একজনকে দেওয়া হয়েছে। এই কমিশনারের মাধ্যমে ইসিকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম সব ধরনের নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রতিদিন সিইসির কাছে বার্তা বাহকের মাধ্যমে বিভিন্ন নির্দেশনা পাঠানো হয়।সিইসির দপ্তর থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।”

রিটার্নিং কর্মকর্তার বাছাইয়ে বাড় পড়া বিএনপি প্রার্থীদের অনেকেই নির্বাচন কমিশনে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় বৃহস্পতিবার ইসির প্রশংসা করেছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেছিলেন, “রিটার্নিং অফিসাররা আমাদের দলের যাদের অবৈধ ঘোষণা করেছিল, নির্বাচন কমিশনের শুনানির মধ্য দিয়ে তাদের অনেকেই প্রার্থী হওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। আমি নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানাই তারা ন্যায়বিচার করেছেন।”

আর শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে রিজভী দাবি করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘সেল’ স্থাপন করা হয়েছে।

“গত ২ ডিসেম্বর মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট সেলের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট কাউকে স্বতন্ত্র প্রার্থী না করার বিষয়ে কড়া নির্দেশনা ছিল। নির্বাচন কমিশন আপিলে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বহালের ক্ষেত্রে ওই নির্দেশনা অনুসরণ করেছে।”
রিজভী দাবি করেন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ মোবারক হোসেনকে ক্ষমতাসীন দলের ওই ‘নির্বাচন পরিচালনা সেলের’ আইন উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “ভোট কারচুপির জন্য জোন (অঞ্চল) ভাগ করে পুলিশ বিভাগের ১২ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।… দায়িত্বপ্রাপ্তরা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট জোনগুলোর বৈঠক সম্পন্ন করেছেন।”

১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কেন্দ্র ভিত্তিক আওয়ামী লীগ-বিএনপির কেন্দ্রের তালিকা, কেন্দ্রভিত্তিক হিন্দু ভোটারদের অবস্থান, কেন্দ্র ভিত্তিক বিএনপি-জামায়াতের অবস্থান, কেন্দ্রভিত্তিক বিএনপির প্রভাবশালীদের নামের তালিকা পুলিশের ওই ১২ কর্মকর্তাকে প্রস্তুত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন এই বিএনপি নেতা।

তিনি বলেন, “আরো জানা গেছে, গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থাটি ইলেকশন ওয়ার্কিং ফোরাম নামে ইসির নিবন্ধিত ২০ সংস্থার ব্যানারে একটি মোর্চা গঠন করেছে। এই মোর্চার অধীনে ২০ হাজার দেশি নির্বাচনী পর্যবেক্ষকের তালিকা প্রস্তুত করেছে, যারা নির্বাচনের দিন আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোট কেন্দ্রে থাকবে।”

এসব তথ্যের কোনো উৎস প্রকাশ না করে রিজভী বলেন, “আওয়ামী লীগের পরিকল্পনার বিষয়গুলো মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা জনগণকে জানাচ্ছি।”

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীদের তালিকা তুলে ধরে তাদের মুক্তির দাবি জানান দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব।

অন্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, ফরহাদ হালিম ডোনার, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।