লাইফষ্টাইল

রেসিপি: চই পিঠা

সেমাই পিঠা নামেও পরিচিত। রেসিপি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী ডা. ফারহানা ইফতেখার।

অনেকে চুসি বা সেওয়াই পিঠাও বলেন। অঞ্চলভেদে অনেক নাম থাকলেও এটি আসলে রসের পিঠা। সাধারণত খেজুরের রসে জ্বাল দিয়ে করা হয়।

বাংলাদেশের যেসব অঞ্চলে খেজুর গাছের প্রাধান্য রয়েছে যেমন- দক্ষিণাঞ্চল, ফরিদপুর, নোয়াখালী, বরিশাল, খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, চটগ্রাম অঞ্চলেই এই পিঠার প্রচলন বেশি।

উপকরণ: চালের গুঁড়া আধা কেজি। পানি ১ কাপ। লবণ পরিমাণ মতো।

পিঠা রান্নার জন্য: দুধ ১ লিটার। গুড় ১ কাপ। এলাচ ২টি। দারুচিনি ১টি। ঘি ১ টেবিল-চামচ। গুঁড়া-দুধ ১ টেবিল-চামচ।

পদ্ধতি: প্রথমে গরম পানিতে চালের গুঁড়া ও লবণ দিয়ে খামির তৈরি করুন। এবার ভালোভাবে ময়ান করে ডো বানিয়ে সেটা থেকে অল্প অল্প করে নিয়ে হাত দিয়ে ঘষে লম্বা লম্বা লতির মতো ছোট ছোট চই তৈরি করে নিন।

একটি হাঁড়িতে দুধ, এলাচ, দারুচিনি দিয়ে ঘন করে জ্বাল দিয়ে সিরা তৈরি করুন। এবার এর মধ্যে চইগুলো দিয়ে দিন।

পিঠা দেওয়ার সময় একবারে ছাড়বেন না। অল্প অল্প করে দুধে ছাড়বেন। অনেকে আগে পিঠাগুলো ভাপ দিয়ে নেয়।

চই সিদ্ধ হয়ে গেলে নামিয়ে একটু ঠাণ্ডা করে গুড়, গুঁড়া-দুধ ও ঘি দিয়ে নেড়েচেড়ে মিশিয়ে নিন। ঠাণ্ডা করে পরিবেশন করুন মজাদার চই পিঠা।

মনে রাখবেন- গরম দুধে কখনও গুড় দেবেন না বা গুড় দিয়ে জ্বাল দেবেন না।

এখন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত গুড়ে সোডা ব্যবহার করা হয়। ফলে দুধে গুড় দিয়ে জ্বাল দিলে বা গরম দুধে গুড় দিলে ফেটে যেতে পারে।

গুড় আলাদা জ্বাল দিয়ে রেখে দুধে পিঠা দিয়ে জ্বাল দিয়ে দুটোই যখন কুসুম গরম তখন গুড় মেশানো ভালো। পরে আর জ্বাল দেবেন না।

চই রোদে শুকিয়ে বয়ামে ভরে সংরক্ষণ করা যায় অনেক দিন। যখন খেতে ইচ্ছা করবে শুধু উপরের নিয়মে রান্না করলেই হবে।