ক্রীড়াঙ্গন

ঢাকা টেস্টে আমরা ১২০ ভাগ দিয়ে খেলব: মাহমুদুল্লাহ

সিলেটে সিরিজের প্রথম টেস্টে জিম্বাবুয়ের কাছে ১৫১ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। তাই সিরিজ হার এড়াতে দ্বিতীয় টেস্টে জয় ছাড়া অন্য কোন পথই খোলা নেই বাংলাদেশের। তাই দ্বিতীয় টেস্ট জয়ের জন্য ম্যাচে নিজেদের সেরার চাইতে বেশি দেয়ার কথা জানালেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের আগে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুল্লাহ বলেন, ‘সবার ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জায়গা থাকে। খেলোয়াড়রা নিজে থেকেও চিন্তাও করে, দলও চিন্তা করে। আমার মনে হয় আমাদের দেশের খেলোয়াড়রা অনেক হৃদয় দিয়ে খেলে। যে তাঁর দেশের জন্য খেলে সবসময় ১০০ ভাগ দিয়েই খেলে। এই টেস্টে আমরা ১২০ ভাগ দিয়ে খেলব।’

ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশের পর ফুরফুরা মেজাজেই ছিলো বাংলাদেশ। এমনকি টেস্ট র‌্যাংকিং ও সাম্প্রতিক পারফরমেন্সের বিচারে জিম্বাবুয়ের চাইতে অনেক বেশি এগিয়ে ছিলো টাইগাররা। কিন্তু সিলেটের অভিষেক টেস্টে বাংলাদেশকে চমকে দেয় জিম্বাবুয়ে। সাড়ে তিনদিনে বাংলাদেশকে বিধ্বস্ত করে ম্যাচ শেষ করে দেয় জিম্বাবুয়ে। ফলে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে জিম্বাবুয়ে। তাই দ্বিতীয় ম্যাচের আগে চাপে বাংলাদেশ।

কিন্তু সবকিছুই ইতিবাচকভাবে দেখছেন টাইগার দলপতি বাংলাদেশ মাহমুদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কি পরাজয়ের কথা কেউ চিন্তাও করেনি। আর আমরা ইতিবাচকই চিন্তা করছি। কারণ আপনি যদি নেতিবাচক চিন্তা বেশি করেন তাহলে হয়তো আটকে যেতে পারেন। আমরা নিজেদেরকে ইতিবাচক রাখার চেষ্টা করার পাশাপাশি ইতিবাচক চিন্তাও করছি যেন আমরা ভাল ক্রিকেট খেলে ম্যাচটি জিততে পারি।’

প্রথম হারের পরও ইতিবাচক আছেন মাহমুদুল্লাহ। তবে সিরিজ শুরুর আগেও বাংলাদেশ দল বেশি আত্মবিশ্বাসী বা ইতিবাচক ছিলো? এমন প্রশ্নের জবাবে মাহমুদুল্লাহ বলেন, ‘না আমার কাছে তেমনটি মনে হয় না। কারণ আমরা প্রতিটি প্রতিপক্ষকেই ওভাবেই দেখি। ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়াকে যেভাবে দেখি, আমি জিম্বাবুয়েকেও একই চোখে দেখি। কারণ মাঠে গিয়ে ভাল খেলাটাই মূল লক্ষ্য। সেটা যদি আপনি করতে না পারেন তাহলে আপনারও খারাপ লাগবে, কারণ আপনি দেশের হয়ে ভাল করতে পারছেন না। এটা সবাইকেই অনেক পীড়া দেয়। আমরা এখন সবার সাথেই কথা বলেছি, টিম ম্যানেজমেন্টের সবার সাথেই আলাপ হয়েছে। আমাদের এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মত অবস্থা। আমাদের শক্তভাবে কামব্যাক করতে হবে। এখানে অন্য কোন সুযোগ নেই।’

মিরপুরের মাঠে বাংলাদেশের খেলার অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের। তারপরও মিরপুরের উইকেট নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন বাংলাদেশ দলপতি মাহমুদউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘এটা সবসময়ই কঠিন, উইকেট একটু ধীর। ধীর উইকেট হলে রান করা একটু কঠিন হয়। কষ্ট করে রান করতে হবে। এখানকার উইকেট এমন না যে বল ব্যাটে আসবে আর আপনি শট খেলতে পারবেন। খুব বুঝেশুনে খেলতে হবে। একেক বোলারের জন্য একেক শট খেলতে হবে, আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী। এখন অপেক্ষা আমরা নিজেরা কিভাবে নিজেদের অ্যাপ্লাই করি।’

উইকেট নিয়ে পুরোপুরি ধারণা না থাকায় একাদশ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসেনি বাংলাদেশ। এমনটাই জানিয়েছেন মাহমদউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘উইকেট যখন অপ্রত্যাশিত থাকে তখন সম্ভবত একাদশটিও অপ্রত্যাশিত থাকে। এখন যেটি বললাম যে কৌশলগত দিক থেকে এখানে কিছু পরিবর্তন থাকবে। এখন দেখা যাক আগামীকাল কি হয়। আমরা কিছু পরিবর্তন করতে পারি। আপনারা কাল দেখতে পাবেন, সম্ভবত কিছু পরিবর্তন আসবে।’

ওয়ানডে ও টি-২০ ফরম্যাটে ব্যাট হাতে নিজেকে মেলে ধরতে পারলেও টেস্টে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারছেন না মাহমুদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় শৃঙ্খলার অভাবের কারণেই এমনটা হচ্ছে। যেটি আমি আগেই বললাম যে টেস্ট ক্রিকেটে মনোযোগের লেভেলটাও সেরকম পর্যায়ে থাকতে হবে। তা নাহলে, পারফর্ম করার সুযোগটি অনেক কম। কারণ বিশেষ করে যেটি আগেই উল্লেখ করলাম যে স্লো এবং স্পিনিং উইকেটে যেখানে বল হয়ত কাছে কম আসে, তখন আপনাকে অবশ্যই সেভাবে খেলতে হবে। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে খেলা লাগবে এবং শৃঙ্খলার ব্যাপারটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। টেস্টে আরও ধৈর্য নিয়ে খেলতে হবে।’